Posts

রঙ-তুলির আত্মকথা

Image
রঙ: আমি পৃথিবীকে রঙ্গিন করে তুলি। তুলি: আর আমি তোমার রঙ্গীনতায় সাহায্য করি। রঙ: সেটা কিরকম! তুলি: ওমা! আমার ছোঁয়ায় তোমার সৌন্দর্য্যের রূপ প্রকাশ পায়। রঙ আর তুলি- এদের দুজনের বেশ একে অপরের সঙ্গে গভীর একটা সম্পর্ক আছে। ছোটবেলায় যখন আমরা জল রঙের বাক্স কিনতাম সেই বাক্সটার সাথে একটা তুলিও থাকতো সেটা আমরা সবাই খেয়াল করেছি। তাই আজ অন্য কিছু নয়; বরং রঙ-তুলির এই গভীর সম্পর্ক নিয়ে কথা বলবো। আমাদের এই পৃথিবীটা রঙ দিয়ে মোড়ানো। আমাদের দৃষ্টি যতদূর অবধি যায় ততই আমরা বেশ নানান রঙের সমাহার খুঁজে পাই। আমাদের আশেপাশের সব কিছুই তাদের নিজেদের বিশেষ কয়েকটি রঙ ধারণ করে আছে। শুধু বাস্তব জগতের কথা বললে ভুল হবে। আমাদের স্বপ্নের জগতেও আমরা রঙের বৈচিত্র্য খুঁজে পাই। সংক্ষেপে বলতে গেলে রঙ আমাদের জীবনকে বেশ সুন্দর করে রাঙিয়ে তোলে। ওই যে লাল গোলাপটা যেটা দেখলে যেকোনো নারীর মন খুশিতে ভরে ওঠে। আচ্ছা! কখনও কি আমরা ভেবে দেখেছি যদি আমাদের জীবনটা পুরোনো দিনের 'ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট'-এর মতন হতো! দেখতে গেলে সাদা কালোও রঙের মধ্যেই পড়ছে। আরও সহজ করে বললে, "যদি সব কিছু রঙহীন হতো!" ভালো কি লাগতো? নাকি ...

একটু অন্যরকম

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা এতটাই ব্যস্ত যে অনেক কিছুই আমাদের নজরে সচরাচর আসেনা। কিন্তু সারাদিনের ক্লান্তির পর ভারচুয়াল মিডিয়াতে ঢুকতেই এমন কিছু দেখি যেগুলো আবার এড়িয়ে যাওয়ার মতোনও না। মাঝেমধ্যেই ফেসবুকের মতোন সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশির ভাগ মেয়েদেরই পোস্ট করতে দেখি যেখানে বলা হয়ে থাকে, " একটা ছেলে কখনই একটা মেয়ের চেয়ে বেশি স্ট্রং হতে পারে না। আমরা হেঁসেল ঠেলি, সংসার সামলাই, নয় মাস একটা বাচ্চাকে পেটে রেখে জন্ম দি প্রসব যন্ত্রণা সহ্য করে, তাকে বড় করে তুলি এবং আরও অনেক কিছু।" বলতে শুরু করলে হয়তো শেষ হবে না। অবশ্যই আমরা মেয়েরা স্ট্রং না হলে রান্না করা, সংসার সামলানো, কাজ করা, আবার ছেলে-মেয়ে মানুষ করে তোলা- এতকিছু একা হাতে করা মুখের কথা নয়। প্রসব যন্ত্রণা সহ্য করার ক্ষমতাটাও মেয়েদের আছে। কিন্তু শুধুমাত্র এই "প্রসব যন্ত্রণা" কথাটাকে বেশি প্রাধাণ্য দিয়ে কখনই নিজেদের স্ট্রং আর ছেলেদের উইক বলা খাটে না। কারণ আমরা মেয়েরা যেকোনও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখিন হলে অনেক সময়ই ভেঙে পরি। কিন্তু কখনই কোনও ছেলেকে কোনোরকম কঠিন পরিস্থিতিতে কাঁদতে বা হেরে যেতে দেখিনা। তাদের মুখবুজে সেই কঠিন সময়ট...

আমার শহর

Image
"মেঘের চাদরে মোড়া চেনা শহর, সবুজের গন্ধের মোড়কে ভরে থাকে ভালোবাসার আঙ্গিনা।" ঠিক এইভাবেই শহরটার প্রেমে পড়েছিলাম। বয়স তখন সবে তেরো, মা বাবার হাত ধরে এই স্বপ্নের দেশে পাড়ি দি। মনের মধ্যে ছিল অনেকটাই কৌতূহল আর কিছুটা ভয়। কিন্তু কখন যে এই ভয়টা কাটিয়ে এই শহরটাকে ভালবেসে ফেলেছিলাম তা বুঝতে পারিনি। ওহ! শহরটার নামটা তো বলাই হল না! আমার কালিম্পং। স্কুল জীবনের বেশির ভাগ সময়টাই আমার এখানে কাটানো। স্কুলের নাম ছিল নেপালি গার্লস হাই স্কুল। এই শহরের মধ্যমণি ছিল আমার স্কুল। পাহারের কোলে থাকায় স্কুলটি এই শহরটির মতোই ছিল সৌন্দর্যে ভরপুর। স্কুলটির পাশেই ছিল হোস্টেল ক্যাম্পাস। ওখানেই আমাকে থাকতে হত। বেশ কয়েকজন নতুন কিছু ছোট -বড় মানুষের সাথে আলাপ হয় সেখানে। শহরটার মতন ওখানকার মানষগুলো বেশ সুন্দর। ভীষণ জলদি আপন করে নেয় সবাইকে তারা। দেখতে গেলে বেশ ছোট বয়স থেকেই হোস্টেল জীবন সম্পর্কে ধারণা এসে গিয়েছিল। দিনগুলো বেশ মজায় কাটতো। সকালে স্কুল আর বিকেলে হোস্টেল এ গিয়ে সোজা খেলতে চলে যাওয়া, এইভাবেই সারাটা দিন কেটে যেতো। আর রবিবার দিনগুলো ক্যাম্পাস থেকে একটু বেরিয়ে পাশের চার্চে নিয়ে যাওয়া হতো। ...